February 11, 2024
Book Review

দেয়াল উপন্যাস রিভিউ: জীবন সৌন্দর্য আর সত্যের সন্ধান

দেয়াল উপন্যাস রিভিউ

দেয়াল উপন্যাস রিভিউ: নানা ঘটনার ঘনঘটায় ঢাকা পড়ে নি জীবন সৌন্দর্য আর জীবন-সত্যের সন্ধান। ইতিহাসের সত্য আর লেখকের সৃজনী ভাবনা দুইয়ে মিলে ‘দেয়াল’ পরিণত হয়েছে একটি হৃদয়গ্রাহী উপাখ্যানে।

দেয়াল উপন্যাস রিভিউ

হুমায়ুন আহমেদে এর লেখকজীবনের শেষ উপন্যাস ‘দেয়াল’। 2011 সালের মাঝামাঝিতে তিনি ‘দেয়াল’ রচনা শুরু করেছিলেন। বেশ কিছুদিন বিরতির পর যুক্তরাষ্ট্রে তাঁর ক্যানসার চিকিৎসা চলাকালে নতুন ‘দেয়াল’ রচনায় মনোনিবেশ করেন তিনি। তন্মধ্যে তার অকাল প্রয়ানে উপন্যাসটির চূড়ান্ত রূপ দেয়ার সুযোগ পাননি। তার মৃত্যুর পর 2013 সালের একুশে বইমেলায় উপন্যাসটি প্রকাশিত হয়। ইতিহাসের সত্যের সাথে কল্পনার রঙ মিশিয়ে হুমায়ুন আহমেদ জন্ম দিয়েছেন এই হৃদয়গ্রাহী উপাখ্যানের। [ দেয়াল উপন্যাস রিভিউ ]

‘দেয়াল’ উপন্যাসটিতে লেখক হুমায়ুন আহমেদ সদ্যস্বাধীন বাংলাদেশের পরবর্তী সময়ের পটভূমিতে উপন্যাসটি লিখেছেন। তরুণী অবন্তিকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হয়েছে এর কাহিনী। এ উপন্যাসে কিছু বাস্তব চরিত্র সন্নিবেশিত করেছেন। যেখানে তাদের নাম-ধাম ঘটনা সবই বাস্তবে বিদ্যমান ছিল। লেখক যেহেতু উপন্যাস লিখেছেন, তাই আছে কিছু কাল্পনিক চরিত্র। তাছাড়া লেখক নিজেও এই উপন্যাসের ওই সময়ের একটি অংশ, তাঁর নিজের ব্যক্তিগত জীবনের অনেক ঘটনাও এ উপন্যাসে বিবৃত হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হিসেবে বাকশালে যোগদানের চাপ, রক্ষীবাহিনী গঠন, শহীদ পরিবার হিসেবে সরকারের বরাদ্দ দেয়া বাড়ি, আবার বাড়ি থেকে তাদেরকে বের করে দেয়ার ঘটনাগুলো লেখক লিখেছেন। [দেয়াল উপন্যাস রিভিউ]

চপলমতি ও প্রচলবিরোধী অবন্তি’র বাবা নিরুদ্দেশ। মা ইসাবেলা স্বামীর সঙ্গে সম্পর্ক ত্যাগ করে স্বদেশ ছেড়ে স্পেনে চলে গেছে। অবন্তি তাঁর দাদা সরফরাজ খানের সঙ্গে ঢাকা বাস করে। সরফরাজ খান রক্ষণশীল স্বভাবের, অবন্তির শিক্ষক শফিকের ওপর নজরদারি করেন। মুক্তিযুদ্ধের সময় নিরাপত্তার জন্য আশ্রয় নেন এক পীরের বাড়িতে। এক পাকিস্তানী সেনা কর্মকর্তা অবন্তিকে দেখে ফেলে এবং বিয়ে করতে চায়। বিপদ থেকে উদ্ধার পেতে পীর নিজের ছেলের সঙ্গে অবন্তির বিয়ে দিয়ে দেন। অবন্তি এ বিয়ে মেনে নেয় না আবার হাফেজ জাহাঙ্গীরের সঙ্গে যোগাযোগও ছিন্ন করে না। অবন্তির গৃহশিক্ষক শফিক চরিত্রটিও পাঠকমনে স্থান করে নেয়। শফিক নিজেকে ভীতু মনে করলেও সময় তাকে সাহসী করে তোলে। সামরিক শাসনের সেই আতঙ্কিত সময়ে রাস্তায় নেমে ‘মুজিব হত্যার বিচার চাই’ শ্লোগান দেয় সে। শফিকের গ্রেফতার ও বারবার নিপীড়িত হওয়ার ঘটনাও পাঠকমনে নাড়া ফেলে। [দেয়াল উপন্যাস রিভিউ]

সরফরাজ খানের পুত্রের বন্ধুদের একজন মেজর জেনারেল খালেদ মোশাররফ। এ-বাড়িতে তাঁর আসা-যাওয়া আছে। তাঁর সূত্রে কর্নেল তাহেরও এখানে এসেছেন। বঙ্গবন্ধু হত্যার পরিকল্পনাকারী মেজর ফারুকের বিষয়ও এ উপন্যাসে উঠে আসে। এ পরিকল্পনায় ফারুক ও মেজর রশীদ মেজর জিয়া ও ওসমানীকে জড়িত করে। পরিকল্পনার সাফল্য, খন্দকার মোশতাকের ক্ষমতালাভ, খালেদ মোশাররফের অভ্যূথান, কারাগারে চার নেতা হত্যা, কর্নেল তাহেরের নেতৃত্বে সিপাহী-জনতার বিপ্লব, জিয়াউর রহমানের মুক্তিলাভ ও ক্ষমতাগ্রহণ, খালেদ মোশাররফ ও কর্নেল হুদার হত্যা এবং তাহেরের ফাঁসিতে উপাখ্যানের সমাপ্তি। উপন্যাসের সমাপ্তি হয়েছে 1981 সালে জিয়ার হত্যাকান্ডে। এরই মধ্যে ছড়িয়ে আছে হুমায়ুনের স্বভাবসিদ্ধ এপিগ্রাম। সামান্য নমুনা দেয়া হলো:

মানুষ এবং পশু শুধু যে বন্ধু খোঁজে তা না, তারা প্রভুও খোঁজে।
এই পৃথিবীতে মূল্যবান শুধু মানুষের জীবন, আর সবই মূল্যহীন।
কিছু বিদ্যা মানুষের ভেতর থাকে। সে নিজেও তা জানে না।
যে লাঠি দিয়ে অন্ধ মানুষ পথ চলে, সেই লাঠি দিয়ে মানুষও খুন করা যায়।
মানবজাতির স্বভাব হচ্ছে সে সত্যের চেয়ে মিথ্যার আশ্রয়ে নিজেকে নিরাপদ মনে করে।

দীপু নাম্বার টু: দুঃসাহসিক অ্যাডভেঞ্চারে পরিপূর্ণ একটি স্মৃতি

দেয়াল উপন্যাস রিভিউ হুমায়ুন আহমেদ উক্তি

হুমায়ূন আহমেদ (১৩ নভেম্বর ১৯৪৮ – ১৯ জুলাই ২০১২) ছিলেন একজন বাংলাদেশি ঔপন্যাসিক, ছোটগল্পকার, নাট্যকার এবং গীতিকার, চিত্রনাট্যকার ও চলচ্চিত্র নির্মাতা। তিনি বিংশ শতাব্দীর জনপ্রিয় বাঙালি কথাসাহিত্যিকদের মধ্যে অন্যতম। তাকে বাংলাদেশের স্বাধীনতা পরবর্তী অন্যতম শ্রেষ্ঠ লেখক বলে গণ্য করা হয়। সৃষ্টি করেছেনে মিসির আলী, হিমু, রুপা, শুভ্র, বাকের ভাইয়ের মতো জীবন্ত সব চরিত্র। বাঙালি মধ্যবিত্তের মনস্তত্ত্ব তার মতো করে আর কেউ অনুভব করতে পারেননি।

বইয়ের নামঃ দেয়াল (শেষ উপন্যাস)
লেখকঃ হুমায়ুন আহমেদ
প্রথম প্রকাশঃ একুশে বইমেলা, ফেব্রুয়ারী 2013
ষষ্ঠ মুদ্রণঃ একুশে বইমেলা, ফেব্রুয়ারী 2013
প্রকাশকঃ মাজহারুল ইসলাম, অন্যপ্রকাশ
পৃষ্ঠাঃ 195

0 0 votes
Article Rating
Subscribe
Notify of
guest

1 Comment
Oldest
Newest Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments
1
0
Would love your thoughts, please comment.x
()
x